সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বড়সড় আপডেট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম যাচাইয়ের জন্য বিবেচনায় ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজারেরও বেশি নামের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাদ পড়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজারের বেশি নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই জেলার বিচারাধীন তালিকায় ছিল ১১ লক্ষেরও বেশি নাম। এর মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মানুষের নাম বৈধ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এখানে বিচারাধীন তালিকায় ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার নাম, যার মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৬৫ হাজার নামকে বৈধ হিসেবে ধরা হয়েছে।
মালদা জেলায় বাদ পড়েছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজারেরও বেশি নাম। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বাদ গেছে ২ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি নাম। একইভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও প্রায় ২ লক্ষ ৯ হাজারের মতো নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় আলাদা করে যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বৈধ ভোটারদের নামও ভুলবশত বাদ পড়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছভাবে হওয়া উচিত এবং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য দ্রুত সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বড় পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, কমিশন আগামী দিনে এই অভিযোগ ও উদ্বেগের কীভাবে মোকাবিলা করে।


