Saturday, June 27, 2026
36.1 C
Kolkata

‘৮ হাজার টাকা ভাড়া দেবো কী করে?’ – উচ্ছেদের পর চরম সংকটে দিল্লির যমুনা বাজারের শতাধিক পরিবার

দিল্লির যমুনা বাজার এলাকায় বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালাল দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ) ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (এমসিডি)। বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে যমুনার ঘাট নম্বর ২ থেকে ৩২ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় থাকা বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। এই অভিযানের ফলে কয়েকশো পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে।প্রশাসনের দাবি, যমুনার বন্যাপ্রবণ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিগুলি সরানোই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য। ডিডিএ জানিয়েছে, ওই এলাকা যমুনার ‘ও-জোন’-এর অন্তর্গত, যেখানে স্থায়ী নির্মাণের অনুমতি নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে এলাকা খালি করার জন্য একাধিক নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ নোটিসে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয় যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে প্রশাসন নিজেই উচ্ছেদ অভিযান চালাবে।অভিযানের আগে অনেক পরিবার নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সকলের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। বুলডোজার পৌঁছতেই তড়িঘড়ি ঘর থেকে দরজা, জানালা ও অন্যান্য জিনিস বের করে নিরাপদ স্থানে রাখার চেষ্টা করেন বাসিন্দারা। তবে অনেকেরই মূল্যবান সামগ্রী ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়।উচ্ছেদের পর এখন ঘাট এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই রাস্তার ধারে বা ঘাটের সিঁড়ির পাশে বসে রয়েছেন নিজেদের সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পরিবারগুলির দুর্দশা চোখে পড়ার মতো।এই উচ্ছেদ অভিযানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে পড়ুয়ারা। দশম শ্রেণির ছাত্রী কবিতা কুমারী জানায়, তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা এই যমুনা বাজারেই। হঠাৎ ঘর হারিয়ে সে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। সামনে মাধ্যমিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও এখন কোথায় থাকবে, কীভাবে পড়াশোনা করবে, তা নিয়ে সে অনিশ্চিত।একই রকম উদ্বেগে রয়েছেন বহু কর্মজীবী মানুষও। রাজকুমারী যাদব নামে এক ফুল বিক্রেতা জানান, যমুনার ঘাটেই বছরের পর বছর ফুল বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। ঘর হারানোর পাশাপাশি জীবিকাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। কোথায় গিয়ে কাজ করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে নেই।বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন যদি এতদিন ধরে এই বসতিগুলিকে অবৈধ বলে মনে করে থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ, জল ও অন্যান্য সরকারি পরিষেবা কীভাবে দেওয়া হয়েছিল? অনেকের দাবি, তাঁদের পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন সরকারি নথিতেও এই ঠিকানাই উল্লেখ রয়েছে।উচ্ছেদের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি শৌচালয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের দেওয়া শেষ নোটিসে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। বিকল্প পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভও বাড়ছে। সবকিছু হারিয়ে এখন নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন এই পরিবারগুলি।

Hot this week

১৩ কিমি রাস্তা নির্মাণে খরচ ১৭ কোটি! এক বছরেই চলাচলের অযোগ্য

চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকায় চোখের সামনেই চলছে...

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০০০! নিখোঁজ ৫০,০০০-এরও বেশি

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে।...

Topics

১৩ কিমি রাস্তা নির্মাণে খরচ ১৭ কোটি! এক বছরেই চলাচলের অযোগ্য

চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকায় চোখের সামনেই চলছে...

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০০০! নিখোঁজ ৫০,০০০-এরও বেশি

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে।...

“অযোধ্যাতেই হবে বিজেপির লঙ্কাকাণ্ড” – রামমন্দিরে চুরি বিতর্কে গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ অখিলেশ যাদবের

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র...

রামলালার হিরের হার চুরির অভিযোগ! ট্রাস্ট সচিবের ইস্তফার মাঝেই নতুন বিতর্ক

অযোধ্যার রামমন্দিরে বড় ধরনের চুরির অভিযোগে এখন সারা দেশ...

Related Articles

Popular Categories