বাংলা আবারও পেল বড় গৌরবের মুহূর্ত। শুক্রবার ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন ওয়েবসাইটে রাজ্যের ১২টি নতুন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে এই পণ্যগুলির বিশেষত্ব এখন আইনত সুরক্ষিত হল এবং বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
নতুন জিআই ট্যাগ পাওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে চন্দননগরের জলভরা ও জনাইয়ের মনোহরা, শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারা, বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ, হটোগ্রামের শাঁখা শিল্প, বলাগড়ের নৌকা, কলকাত্তি গয়না, পুরুলিয়ার লাক্ষা, মুর্শিদাবাদের সিল্ক, মালদহের আশাপুরের বেগুন এবং পূর্ব বর্ধমানের নতুন গ্রামের কাঠের পুতুল।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস চেয়ার প্রফেসর পিনাকী ঘোষ ও তাঁর টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম। বীরভূমের বাসিন্দা অধ্যাপক শুভদীপ মণ্ডল গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুভদীপ বলেন, “জিআই ট্যাগ পেলে স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে। শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বীরভূমের ছেলে হিসেবে এই কাজে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত।”
এখনও মালদহের নবাবগঞ্জের বেগুন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাইয়ের বাবরশা মিষ্টি এবং শান্তিনিকেতনের আলপনা বিবেচনাধীন রয়েছে। এই স্বীকৃতি বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পদকে বিশ্বের দরবারে আরও মর্যাদা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


