সমাজে এখনও এমন বহু পরিবার আছেন, যাদের কাছে অসুস্থতা মানেই নতুন সংকট। হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানো গেলেও নিয়মিত ওষুধ কেনা বহু মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয় না। রানাঘাট-২ ব্লকের মনসাহাটি গ্রামের এক তরুণ চিকিৎসক সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই ভরসার হাত বাড়িয়ে দিলেন। নিজের বাড়িতেই তিনি তৈরি করেছেন একটি ছোট্ট “মেডিসিন ব্যাংক”, যেখানে আর্থিক অসুবিধায় থাকা রোগীরা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন।
মনোসামাজিক রোগের চিকিৎসক ডা. সাদ্দাম হোসেন মণ্ডল জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই তিনি রোগীদের কাছ থেকে বুঝতে পারতেন, কীভাবে ওষুধের দাম অনেককে চরম বিপাকে ফেলে দিয়েছে। কেউ কেউ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন না শুধুমাত্র ওষুধ না কিনতে পারার কারণে। এই অসহায়তার ছবিই তাকে আলাদা উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি দেখেছেন, একটি পরিবারের কেউ সুস্থ হয়ে গেলে বা কোনো রোগীর মৃত্যু হলে বাড়িতে বহু ওষুধ অব্যবহৃত পড়ে থাকে। আবার অনেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য মাঝপথে ওষুধ বদলে ফেলেন, ফলে পুরনো ওষুধই নষ্ট হয়। ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছেও ওষুধ জমে থাকে, যা প্রয়োজন মতো কাজে লাগানো যায় না। এই অপচয় রোধ করতেই জন্ম নেয় তার পরিকল্পনা,ব্যবহারযোগ্য ও বৈধ মেয়াদ থাকা ওষুধ সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া।
সমাজ মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন মেয়াদোত্তীর্ণ নয় এমন ওষুধ দানের জন্য। অনুরোধ ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ সাড়া দিতে শুরু করেন। কেউ দু’একটি স্ট্রিপ পাঠিয়েছেন, কেউ কয়েক হাজার টাকার ওষুধের বড় প্যাকেট তুলে দিয়েছেন তার হাতে। সহমর্মিতার এই ঢল দেখে আরও উৎসাহিত হয়েছেন ডা. সাদ্দাম।
ডা. সাদ্দাম জানালেন, এখন উদ্যোগটি ছোট পরিসরে হলেও ভবিষ্যতে এটি আরও সংগঠিতভাবে ছড়িয়ে দিতে চান। এই জন্য তিনি প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করছেন, যাতে কোনও আইনি জটিলতা না থাকে। তার কথায়, “ওষুধ নষ্ট না হয়ে যদি কারও কাজে লাগে, তার চেয়ে বড় আনন্দ আমার আর কিছুতে নেই।” মানবিকতার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন প্রয়াস অন্য জায়গাতেও নেওয়া গেলে বহু মানুষ উপকার পাবে।


