গ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই আগের কেন্দ্রীয় সরকার ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্প চালু করেছিল। পরে সেই প্রকল্পের বদলে নতুন করে ‘ভিবি জি রাম জি’ নামে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজের নিশ্চয়তা এবং তুলনামূলক বেশি মজুরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প চালুর পরই সামনে এসেছে ভিন্ন ছবি। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (SBI) সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি কর্মদিবস প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর দেশের বেশ কিছু অংশে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজেও তার প্রভাব পড়েছে। সাধারণত এই সময় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বৃষ্টি কম হওয়ায় অনেক জায়গায় সেই কাজও কমেছে। ফলে বিকল্প আয়ের জন্য গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের কাছে সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তবে নতুন প্রকল্পের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে। কৃষির ব্যস্ত মরশুমে কোনও রাজ্য চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে পারে। সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে। এসবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি রাজ্য এই নিয়ম ব্যবহার করে এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু করেনি। এর মধ্যে বিজেপি শাসিত গুজরাত ও ওড়িশার মতো রাজ্যের নামও রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য তুলে ধরে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২১ আগস্ট পর্যন্ত বিহারে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ঘাটতি ৩৯ শতাংশ। গোয়া, পাঞ্জাব, কেরল, অসম, কর্ণাটক, রাজস্থান, তেলঙ্গানা-সহ একাধিক রাজ্যেও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিকাজে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশে প্রায় ১৭.৬৫ কোটি কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৮.৯৯ কোটিতে। গত বছরের আগস্টে কর্মদিবস ছিল প্রায় ১২.১২ কোটি। চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত তা হয়েছে মাত্র ২.৮৫ কোটি। সব মিলিয়ে ঘাটতির হার ৬০.২ শতাংশ।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবেও বেশ কিছু জায়গায় বড় পতন দেখা গিয়েছে। পাঞ্জাবে কর্মদিবস কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। ঝাড়খণ্ড, গুজরাত, হরিয়ানা, ওড়িশা, বিহার, তামিলনাড়ু এবং মধ্যপ্রদেশেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে কাজের সুযোগ। তবে তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে গত বছরের তুলনায় কর্মদিবস বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে গত বছর ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্প কার্যত বন্ধ থাকায় এবারের পরিসংখ্যানে রাজ্যটির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ১২৫ দিনের কাজের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ কতটা পৌঁছচ্ছে গ্রামের মানুষের কাছে। মূল্যবৃদ্ধির সময়ে কাজের অভাবে বহু পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


