মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার পথে ভয়াবহ ঘটনার শিকার হল একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। অভিযোগ, ভুল জায়গায় নেমে যাওয়ার পর সাহায্যের আশায় একটি বাসে উঠেছিল সে। সেই বাসের চালক ও সহকারী মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে গভীর রাতে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকার কাছে রাস্তায় ওই নাবালিকাকে নামিয়ে দিয়ে বাস নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মইনপুরীর বাসিন্দা ওই ছাত্রী একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে বকাঝকা হওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়েই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। নয়ডায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পথে প্রবল বৃষ্টি এবং অন্ধকারের কারণে সে ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পরি চক এলাকায় নেমে পড়ে।
সেই সময় রাস্তা দিয়ে একটি প্রায় খালি স্লিপার বাস যেতে দেখে সাহায্যের আশায় সেটিকে থামার জন্য হাত দেখায় ছাত্রীটি। বাস থামলে চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপ তাকে ভিতরে উঠতে দেয়। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ।
ছাত্রীর অভিযোগ, বাসের ভিতরেই সন্দীপ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করে। পরে চালকও তাতে যোগ দেয়। দু’জনে মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ভয় দেখানো হয়। এমনকি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রী।
এরপর বাসটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দিল্লির দিকে যায়। রাত অনেকটা গড়িয়ে যাওয়ার পর কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছের রিং রোডে ছাত্রীটিকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আতঙ্কিত অবস্থায় কোনওরকমে কাশ্মীরি গেট থানায় পৌঁছে পুলিশকে ঘটনার কথা জানায় সে।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখে তিমারপুর এলাকার একটি বাস পার্কিং থেকে চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে বাসে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেটিও পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। বাসটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। নাবালিকার বয়ান, বাসের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণও সংগ্রহ করা হচ্ছে।


