রাজ্যের স্কুলগুলিতে গ্রন্থাগার পরিষেবার বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য গ্রন্থাগার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, সেই পরিষেবা আদৌ ঠিকভাবে মিলছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সম্প্রতি কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে গ্রন্থাগার চাকরিপ্রার্থী ঐক্য মঞ্চ এই বিষয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলে।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের শিক্ষার অধিকার আইন এবং রাজ্যের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী স্কুলে গ্রন্থাগার ও পাঠাগার পরিষেবা থাকা আবশ্যক। রাজ্য শিক্ষানীতিতেও বলা হয়েছে, অধিকাংশ উচ্চপ্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে গ্রন্থাগার বা রিডিং কর্নার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শুধুমাত্র একটি ঘরে বই থাকলেই কি তাকে কার্যকর গ্রন্থাগার বলা যায়? এই প্রশ্নই তুলেছে ঐক্য মঞ্চ।তাঁদের দাবি, রাজ্যের ৬ হাজারের বেশি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রন্থাগারিকের পদ ফাঁকা পড়ে আছে। একই অবস্থা হাই মাদ্রাসাগুলিতেও। শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত বই পড়া, তথ্য অনুসন্ধান এবং জ্ঞানচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্যে নিয়মিত গ্রন্থাগারিক নিয়োগের জন্য কোনও কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং শিক্ষার অধিকার আইনকে অমান্য করার হচ্ছে।
এছাড়াও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি ও ইনফরমেশন সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছেন, সেখানে কেন তাঁদের নিয়োগ না করে শিক্ষকদের দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে। এতে একদিকে শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার যোগ্য গ্রন্থাগার বিজ্ঞান স্নাতক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।
ঐক্য মঞ্চের বক্তব্য, স্কুলস্তরে গ্রন্থাগার ব্যবস্থা দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উপরও। তাই রাজ্যের ‘গুণগত শিক্ষা’-র দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সংগঠনটি অবিলম্বে সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুল এবং মাদ্রাসায় স্থায়ী ও প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব স্কুলে এখনও গ্রন্থাগারিক পদের অনুমোদন নেই, সেখানে দ্রুত পদ সৃষ্টি করার কথাও বলা হয়েছে।
তাঁরা আরও দাবি করেন, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়াতে হবে। এই দাবিগুলি মানা না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও জানান সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জয়দীপ চন্দ, সীমা মোহান্তি, ডলি ঘোষ, দেবরাজ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সদস্যরা।


