Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে ১০০-এর বেশি আন-এডেড মাদ্রাসায়, ক্লাস ঘরের ভেতরে জন্মেছে আগাছা!

বর্তমানে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে রাজ্যের অনেক মাদ্রাসা ও তার সমস্যাগুলো। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দফায় ২৩৫টি বেসরকারি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে আরও ৩৬৬টি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন পায়। এখন আবার ৩১৪টি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে স্বীকৃতির আবেদন উঠেছে বলে জানা গেছে।

তবে এই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনেক মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসায় গেলেও শিক্ষক উপস্থিত থাকেন না। ফলে পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর-সহ একাধিক জেলায় প্রথম পর্যায়ে অনুমোদিত ২৩৫টি মাদ্রাসার মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এখন ছাত্রসংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। কোথাও কোথাও স্কুল ভবন রয়েছে, বেঞ্চ-টেবিলও আছে, কিন্তু শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। কিছু জায়গায় ক্লাসঘরের ভেতরে আগাছা জন্মেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব মাদ্রাসা কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই আন-এডেড মাদ্রাসাগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের সুবিধা নেই। যদিও হুগলি জেলার মতো কয়েকটি জায়গায় উদ্যোগ নিয়ে প্রায় দশটি মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালু হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও এই সুবিধা চালু করার বিষয়ে দফতর আলোচনা করছে বলে খবর।

প্রথম পর্যায়ে স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলির মধ্যে ৭০টিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয়। ১৬টিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ব্যবস্থা রয়েছে। বাকিগুলিতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর থেকে শিক্ষকদের সাম্মানিক ও পরিকাঠামোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় উন্নয়নের কাজ তেমনভাবে হয়নি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক মাদ্রাসায় শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত হন না। যদিও আন্দোলন বা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাঁদের অংশ নিতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। দ্বিতীয় দফায় অনুমোদন পাওয়া ৩৬৬টি মাদ্রাসাতেও শিক্ষকদের জন্য ভাতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও বহু মাদ্রাসায় এখনও নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে, রাজ্যে আন-এডেড মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়লেও অনেক জায়গায় শিক্ষার মান ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত সমস্যা সমাধান করে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

Related Articles

Popular Categories