গাজা, ২৯ জুন ২০২৫ — ইসরায়েলের অবরোধে গাজায় অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ “নিরীহ শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পৈশচিক যুদ্ধ” বলে নিন্দা জানিয়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বক্তব্যে বলা হয়েছে, দুধ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার ও ওষুধ সরবরাহে ইচ্ছাকৃত বাধার ফলে এই মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে এটিকে যুদ্ধাপরাধ ও ইসরায়েলি অসভ্যতার চরম নিদর্শন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়, যেখানে শিশুরা ক্ষুধা, রোগ এবং ধীর মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গাজায় ৫,১১৯টি শিশুকে তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা নিতে হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় ৫০% বেশি। গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ১১২ জন শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে । ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার্দ বেইগবেদার বলেছেন, “এসব শিশুর মৃত্যু রোধ করা যেত। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, পানীয় ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে” ।
গাজায় মানবিক সংকটের চিত্র দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তিন মাসের শিশু জৌরি আল-মাসরি ও দশ দিনের কিন্দা আল-হামসের মতো শিশুরা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৫৬% গর্ভবতী নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং গত পাঁচ মাসে ২,১০০-এরও বেশি গর্ভপাত ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, পরিষ্কার পানীয় জলও চিকিৎসার অভাবে, না খেতে পেয়ে ও রোগের প্রকোপে দিন দিন শিশুমৃত্যু বাড়াচ্ছে ।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) সহায়তা কেন্দ্রগুলোর কাছে যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত এখানে ইসরায়েলি গুলিতে ৫৫০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন । জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সহায়তা ব্যবস্থাকে “অনিরাপদ” ও “নীতিবিগর্হিত” বলে উল্লেখ করেছেন ।
গাজার মিডিয়া অফিস যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিকে ইসরায়েলের সমর্থনের জন্য দায়ী করে বলেছে, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দনীয় নীরবতা” এই সংকটকে ত্বরান্বিত করছে । বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানালেও, গাজার শিশুদের আর্তনাদ এখনো বিশ্বনেতাদের বিবেক জাগাতে পারেনি।


