গুয়াহাটি, ৩০ জুন ২০২৫: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দু’টি অপসারণের প্রস্তাব দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ‘দ্য ইমার্জেন্সি ডায়েরিজ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ শব্দদ্বয়কে“পাশ্চাত্য ধারণা”আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ১৯৭৬ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময় ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে এগুলো যোগ করা হয়, যা ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
“আমি ধর্মনিরপেক্ষ হই কীভাবে? আমি একজন কট্টর হিন্দু। একজন মুসলিম ব্যক্তি কট্টর মুসলিম। সে কীভাবে ধর্মনিরপেক্ষ হয়?” — হিমন্তের এই মন্তব্য সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তিনি আরও যুক্তি দেন,“চীনের মতো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র নই আমরা। আমাদের মানুষ ভালো সড়কের চেয়ে মন্দির-নামঘরকেই বেশি গুরুত্ব দেয়”।
বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের দেবব্রত শইকিয়া আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে “পদের অযোগ্য” বলে কটাক্ষ করে ইঙ্গিত করেন, বিজেপির নিজস্ব সংবিধানের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য’-এর উল্লেখ রয়েছে । তিনি প্রশ্ন তোলেন: “বিজেপি কি এখন দেশের সংবিধান পরিবর্তন করবে?”
সাবেক জিএইচএডিসি এমডিসি সোফিয়র রহমান মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডন করে বলেন যে, ১৯৭৬-এর সংশোধনীর আগেও সংবিধানের ১৪ ও ২৫-২৮ ধারায় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি নিহিত ছিল। সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৪-এর বোম্মাই মামলায় একে ‘মৌলিক কাঠামো’ বলে রায় দিয়েছে ।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রস্তাবকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করেন করেন আরএসএসের সংঘপ্রধান দত্তাত্রেয় হোসাবলে, যিনি গত বৃহস্পতিবার ঠিক একই দাবি তোলেন ।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানকে কংগ্রেস নেতারা “হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির নতুন অস্ত্র”বলে ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির কৌশল এটি। বিশেষ উল্লেখ্য, হিমন্ত এক দশক আগে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস একদিন আগেই ঘোষণা করেন, “সংবিধানের প্রস্তাবনা মেনে নিলে ৯০% জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব” । এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।
হিমন্তের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন: “ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া মানে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী অসমের মতো রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক সুরক্ষা হ্রাস করা” । উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুত্ববাদী সমাজে এই বিতর্ক এখন আগুনে ঘি ঢালার মতো সমান।


