কলেজ চত্বরে বিয়ে? এটা কি সম্ভব? হ্যাঁ, সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন রুমের ঠিক বাইরে ছাদনাতলা বসানো হয়েছে, যেখানে এক যুগল মালাবদল করছেন। এই অভূতপূর্ব দৃশ্যের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, আর তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কসবাকাণ্ডের পর ইউনিয়ন রুম নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন অশোক গায়েন, যিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) একজন নেতা বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অশোক স্থানীয় বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আর এই মন্টুরাম পাখিরাই সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান। অভিযোগ, বিধায়কের প্রভাব ও সমর্থনের জোরেই অশোক কলেজ চত্বরের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিয়ের আয়োজন করতে পেরেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার মন্দিরে এমন কাণ্ড কীভাবে সম্ভব হল? কে দিল এর অনুমতি? এর পিছনে কি শাসক দলের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাজ করছে?
স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কলেজের মতো জায়গায় এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার পরিবেশকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা কি কলেজ না বিয়ে বাড়ি? ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জায়গায় এসব কী হচ্ছে?” আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, “তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের দাপটে কি এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রেহাই পাবে না?”
অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। অধ্যক্ষ শুভঙ্কর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “কলেজের দক্ষিণ দিকের পাঁচিল একটু নিচু, সেখান দিয়ে বহিরাগতরা মাঝেমধ্যে ঢোকে। আমরা শুনেছি বিয়ে কলেজের বাইরে হয়েছে। পরে বর-বউ কলেজে এসেছিলেন কয়েকজন পরিচিতের সঙ্গে দেখা করতে। ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।” কিন্তু এই বক্তব্য স্থানীয়দের মনে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। ভাইরাল ছবিতে তো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মালাবদল হচ্ছে ইউনিয়ন রুমের বাইরে, কলেজ চত্বরের ভিতরেই! তাহলে কি কর্তৃপক্ষ সত্য গোপন করার চেষ্টা করছেন?
এই ঘটনা শুধু সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নাম জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এখন শাসক দলের ছাত্র নেতাদের খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের আমলে এমন ঘটনা বারবার ঘটলেও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটা কি শিক্ষার প্রতি শাসক দলের উদাসীনতা নয়? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি এভাবেই খেলা চলবে?
সুন্দরবন কলেজের এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ কবে বন্ধ হবে? তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের এই দাপটে শিক্ষার পরিবেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার হিসেব কে দেবে? এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নীরবতা আর কলেজ কর্তৃপক্ষের অস্বীকৃতি সাধারণ মানুষের মনে আরও সন্দেহ জাগিয়েছে। শিক্ষার স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ দরকার। তবে একটা কথা পরিষ্কার, শিক্ষার জায়গায় শাসকদলের এমন গুণধর দাদাদের ছায়া আর কতদিন পড়বে?


