“৬ খানা ব্রিজ একসঙ্গে ধরেছি। বক্সিপুরের ব্রিজ কথা দিয়েছিলাম। ২২ সালের মধ্যে আমি বক্সিপুরের ব্রিজ কমপ্লিট করবো। যদি না পারি, বিধায়কের পদ থেকে ইস্তফা দেবো। ২২ সালের মধ্যে এই কাজ আমি শেষ করবোই। দরকার হলে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে করে দেব।”, ২০২১ সালের ৩১শে আগস্ট ডোমকলের এক জনসভায় আত্মবিশ্বাসের সহিত এমনটাই দাবি করেছিলেন করিমপুরের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম। ২০২৫ সালেও শেষ হলো না বক্সিপুরের ব্রিজ নির্মাণের কাজ। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর কেটে গেছে চারটি বছর, এখনও অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে ব্রিজ নির্মাণের কাজ। ৫ই সেপ্টেম্বর সকলকে ফাঁকি দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন জাফিকুল ইসলাম। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিআইএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে প্রথম বারের জন্য বিধায়ক হয়েছিলেন। এরপর তিনি মরন রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শারীরিক অক্ষমতার কারণে গত দু’বছর বিধানসভা অধিবেশনে নিয়মিত যেতে পারছিলেন না তিনি। ৫ই সেপ্টেম্বর নিজের বিধায়ক পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ৪৯ বছরে প্রয়াত হলেন ডোমকলের এই বিধায়ক।
সেতুটি নির্মিত হলে নদিয়া-মুর্শিদাবাদের মেলবন্ধনে একমাত্র পথ হত বক্সিপুরের ব্রিজটি। সীমান্তবর্তী করিমপুরের জলঙ্গির খড়ির উপর অর্ধ-নির্মিত অবস্থায় সেতুটি আজও দন্ডায়মান। যেটুকু তৈরি হয়েছিল তার কংক্রিটগুলোও এখন ঝরে ঝরে পড়ছে। এতগুলো বছর পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সেতুটি এখনো কেন নির্মাণ করতে পারল না পশ্চিমবঙ্গ সরকার? এ নিয়ে করিমপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি চাপা ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূল সরকারের প্রতি।


