মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে মাংস, মাছ ও ডিম বিক্রয়ে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ভোপালের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট দিব্যা প্যাটেল জানান, “নবরাত্রি ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময় মাংস, মাছ ও ডিম বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।” নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মহুয়া মৈত্রা সামাজিকমাধ্যমে বলেন, “ভোপালের মতো বহুধর্মবিশিষ্ট শহরে কিছু মানুষের জন্য নবরাত্রিতে নিরামিষ ভোজ পালন করা হলেও গোটা শহরকে মাছ, মাংস ও ডিম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত খুবই অন্যায্য। এটা এক ধরনের ধর্মীয় বলপূর্বক মানসিকতা।”
অন্যদিকে গবেষক আতিফা ইকরাম খান বলেন, “উৎসব হলো এক সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। কিন্তু এই উৎসবকে সামনে রেখে অন্য সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রায় বিধিনিষেধ জারি করা মানে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অর্থনৈতিক আঘাত। এমনকি যারা মাংস বিক্রি করে জীবনধারণ করেন, তাদের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেক ছোট শহর ও গ্রামে ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন এমন নিষেধাজ্ঞা নিয়মিত ছিল। কিন্তু এবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা অনেকের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।” মধ্যপ্রদেশ ছাড়াও, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় নবরাত্রির সময় একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হরপুড়ে পুলিশ রেস্টুরেন্ট ও মাংসের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ভোপালের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতিকে রক্ষা করার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।


