“সব তিলোত্তমার বিচার চাই”—এই স্লোগানে এখন গর্জে উঠেছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গ। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী ট্রেনি চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই এই দাবিতে উত্তাল রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর। কিন্তু বাস্তবে বিচার কতটা হচ্ছে? ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের উপর আক্রমণের মাত্র ৩.৭ শতাংশ মামলাতেই দোষীরা সাজা পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা এনসিআরবি জানায়, ২০২৩ সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ৩,৮৮,৫৫৭টি মামলা আদালতে গিয়েছে। এর মধ্যে বিচার সম্পূর্ণ হয়েছে মাত্র ১৯,৯৫৩টি ঘটনায়, যা মোটের ওপর মাত্র ৫.১ শতাংশ। আরও ভয়াবহ তথ্য, এর মধ্যে মাত্র ৭৪৮টি ঘটনায় অপরাধীরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ফলে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে সাজা পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।
সিপিআই (এম)-এর সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই ঘটনাটি কেন্দ্র করে বলেন, “এই কনভিকশন রেটই প্রমাণ করছে পুলিশ ও প্রশাসন কাদের স্বার্থে কাজ করছে। পুলিশ প্রমাণ সংগ্রহে দুর্বল, ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।” রিপোর্টে আরও দেখা যাচ্ছে, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রেও রাজ্যের চিত্র ভয়াবহ, সাজার হার মাত্র ৮.১ শতাংশ। সবচেয়ে বিতর্কিত তথ্য হলো, রাজ্য সরকার এনসিআরবি-কে জানিয়েছে ২০২৩ সালে ১৮ বছরের নিচে কোনও নাবালিকা ধর্ষিত হননি। কিন্তু একই রিপোর্টে উল্লেখ আছে, ৫ জন তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১ জনের বয়স ১৮-র কম। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার তথ্য গোপন করছে কি না।
রিপোর্টে আরও জানা গেছে, ২০২৩ সালে রাজ্যে মোট ১,৮০,২৭২টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ৩৪,৬৯১টি, যা মোট অপরাধের প্রায় ১৯ শতাংশ। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১,১১০টি এবং ধর্ষিতার সংখ্যা ১,১১২ জন। এর মধ্যে ৬৯০ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো অ্যাসিড হামলায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষে। গত বছর ৩৪ জন মহিলা অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন।


