নৈতিক অবক্ষয়, স্বার্থপরতা ও বিদ্বেষে ভরা আজকের সমাজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক ও শিক্ষণীয়। সেই ভাবনা থেকে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার আটাঘর তাজপুর হাই-মাদ্রাসায় উদযাপিত হল ‘বিশ্ব নবী দিবস’। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষকেরা, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এই বিশ্ব নবী দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য ছিল নবীর জীবন ও কর্মের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ করে তার ত্যাগ, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, নারী শিক্ষা, সমানাধিকার এবং সর্বজনীন নৈতিকতার দিকগুলোকে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা নবীর বাণীভিত্তিক কেরাত, গজল, নাতে রসূল, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও মূল্যবান করে তোলে।
তাজপুর হাই-মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সেখ সামসুদ্দিন বলেন, “প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাকে জীবনে প্রতিফলন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। নবীজি নারী-পুরুষ উভয়ের শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক।” অন্যদিকে কৌশিক দে নামক আরেক শিক্ষক সর্বধর্ম সহিষ্ণুতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমি এমন এক নতুন ভারত চাই, যা ইসলামি সমাজচিন্তা ও বৈদান্তিক দর্শনে গঠিত হবে। সব পথই আমাদের ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সহাবস্থানের দিকে নিয়ে যায়।”
বক্তারা নবীর সমাজচিন্তা ও মানবতার বার্তা তুলে ধরে বলেন, আল-আমীন উপাধি প্রাপ্ত নবী শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, সমস্ত মানবজাতির জন্য দয়া ও শান্তির প্রতীক। এছাড়াও নবীর পরিবেশ সচেতনতা, দুস্থদের প্রতি সহানুভূতি, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়েও আলোচনা হয়।
শিক্ষক সেখ সুরজ আলি অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। নবীজির জীবন ও আদর্শের শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার দিকে এগিয়ে যায়, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় বলে মনে করা হয়।


