পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংশোধনে প্রায় ৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম ভোটার। এর ফলে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারেনি। অনেক বৈধ ভোটার, যাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও পরিচয়পত্র ছিল, তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, “আমাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পুরো পরিবারের নাম বাদ গেছে। মনে হচ্ছে বাংলাতেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।”
নির্বাচন কমিশন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই প্রক্রিয়া দরিদ্র ও সংখ্যালঘু মানুষদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ অনেক সময় তাদের সঠিক ঠিকানা বা নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জোগাড় করা কঠিন হয়। অসমের এনআরসি-এর স্মৃতি মানুষকে আরও চিন্তিত করছে। সেখানে বহু বাংলাভাষী মুসলমানকে সন্দেহজনক নাগরিক বলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, যদি বাংলায়ও এসআইআর প্রক্রিয়া একইভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এনআরসির মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন নির্বিচারে নাম বাদ না যায় এবং তালিকা সংশোধনের কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরশাদ আলির মতে, “নির্বাচনের আগে এই ধরনের উদ্যোগ যদি মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়, তাহলে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে।”


