উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলার আবু নগর এলাকায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মহিলা ১৮শ শতাব্দীর নবাব আব্দুল সমাদের সমাধিস্থলে পূজো করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই সমাধিটি ‘মকবরা মাঙ্গি’ নামে পরিচিত ও পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেব দীপাবলি উপলক্ষে ওই মহিলারা দাবি করেন, সমাধিস্থলটি আগে একটি হিন্দু মন্দির ছিল। প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও তারা সেখানে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ও সমাধির পাশে আরতি করেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
আধিকারিক মনোজ কুমার সিং জানিয়েছেন, “সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তারা সংরক্ষিত স্থাপনার ভেতর পূজো করার চেষ্টা করেন। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।” এই ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জনের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহিলারা স্লোগান দিতে দিতে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন। এই ঘটনার পর পুলিশ ও প্রাদেশিক সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম ধর্মগুরু মৌলানা আহমেদ কুরেশি বলেন, “এটা ধর্মীয় ভক্তির বিষয় নয়, ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা।”
অন্যদিকে মহিলারা দাবি করেন, ওই স্থান আসলে একসময় শিবমন্দির ছিল এবং সেখানে পূজো করা তাদের পৈতৃক অধিকার। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে। এই ঘটনা প্রথম নয় বলে জানা গিয়েছে ।এর আগেও চলতি বছরের আগস্ট মাসে একই সমাধিতে হামলা চালিয়েছিল হিন্দু সংগঠনের কিছু সদস্য, তখনও পুলিশের হস্তক্ষেপে শান্তি ফেরানো হয়। জেলাশাসক পি. আর. শর্মা জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। শান্তিভঙ্গের চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রত্নতত্ত্ব দফতর জানিয়েছে, সমাধিটি রাজ্যের সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


