একসময় রেশমের সুগন্ধে ভরে থাকত সমগ্র মালদা জেলা। জেলার অর্থনীতি নির্ভর করত এই রেশম চাষের ওপর। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। যে তুঁতপাতা একসময় রেশম পলুর একমাত্র খাদ্য ছিল, আজ সেই পাতাই বিক্রি হচ্ছে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে। কালিয়াচকের বিভিন্ন বাজারে অল্প দামে তুঁতপাতা বিক্রি হচ্ছে বোঝাই করে। একসময় ‘রেশমের মালদা’ নামে পরিচিত এই জেলার কালিয়াচক, গাজোল, চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকে প্রচুর পরিমাণে রেশম চাষ হত। গঙ্গার উর্বর জমিতে সারি সারি তুঁতগাছ আর প্রতিটি ঘরে রেশম গুটির গন্ধ ছিল এক সাধারণ চিত্র। কিন্তু এখন সেই স্মৃতি প্রায় হারিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, আগে বছরে চারবার পলু পালন হতো। এখন সেই উৎসাহ আর নেই কারণ তাতে খরচ বেশি। তাই বাধ্য হয়ে তুঁতপাতা গরুর খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন তারা। চাষিদের অভিযোগ, উৎপাদনের তুলনায় বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। পরিশ্রম ও যত্নের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় চাষিরা রেশম চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। তুঁতের জমিগুলিতেও এখন অনেকে আম, লিচু বা অন্যান্য ফসলের চাষ শুরু করেছেন বেশি লাভের আশায়। তবে এখনও কয়েকজন আছেন, যারা পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই করছেন। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ পেলে আবারও ‘রেশমের মালদা’ ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব।


