দু’বছর ধরে চলতে থাকা ইসরায়েলের হামলায় গাজা উপত্যকার মানুষ যেমন বিধ্বস্ত, তেমনই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গাজার শতশত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস। প্রাচীন যুগ থেকে ওসমানীয় আমল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের ওপর ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২০ হাজারের বেশি দুর্লভ নিদর্শন আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বহু নিদর্শন আবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। গাজার সরকারি মিডিয়া দফতরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতে সোমবার জানান, পরিকল্পিত ভাবেই ইসরায়েল গাজার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করছে। তার অভিযোগ, “ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস ও পরিচয় মুছে দেওয়ারই চেষ্টা চলছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৩১৬টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা পুরোপুরি বা আংশিক ভাবে ধ্বংস হয়েছে। এর বেশিরভাগই মামলুক ও ওসমানীয় যুগের। পাশাপাশি প্রাচীন ইসলামি যুগ ও বাইজান্টাইন আমলের বহু নিদর্শনও নেই হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ক্ষতির শিকার হয়েছে কাসর আল-বাশা প্রাসাদ। মামলুক আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যস্থল। গাজা শহরের পুরনো অংশ আল-দারাজ এলাকায় অবস্থিত এই প্রাসাদের প্রায় ৭০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে ইসরায়েলি হামলায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে অবস্থিত কালচারাল হেরিটেজ সেন্টারের বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা দখল করে এবং ১৯৯৪ সালে প্রত্যাহার করে। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কাসর আল-বাশা পুনর্নির্মাণ করে তা জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধে আবারও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থান। এখনো পর্যন্ত ইসরাইলের এই হামলায় ৬৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছে।


