সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না, একথা স্পষ্ট জানিয়ে ধর্ষণের মামলা বাতিল করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার আদালত মহারাষ্ট্রের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্না ও আর. মহাদেবন সমন্বিত বেঞ্চ বলেন, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ইচ্ছায় গড়ে ওঠা সম্পর্ককে পরে ধর্ষণের মামলায় রূপান্তর করা যায় না। কোনো সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে বা মতবিরোধ দেখা দিলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখানো ভুল। আদালত আরও জানায়, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগ তুলতে হলে শুরু থেকেই সেই প্রতিশ্রুতি প্রতারণামূলক ছিল, এমন প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
আদালত জানিয়েছে, “শুরুতে যে সম্পর্ক স্বেচ্ছায় হয়েছিল, পরে তা বিয়ে পর্যন্ত না পৌঁছালে তাকে অপরাধ বলা যায় না।” বেঞ্চ আরও উল্লেখ করে, সম্মতিসূচক সম্পর্ক ও ধর্ষণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এবং অভিযোগকারী মহিলা কেন সম্মতি দিয়েছিলেন তার ব্যাখ্যাও পরিষ্কার হতে হবে।
এই মামলায় অভিযোগ ছিল, আইনজীবী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছরের মধ্যে একাধিকবার সম্পর্ক করেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট দেখে যে তিন বছর ধরে সম্পর্কটি নিয়মিত ছিল এবং ওই সময়ে সম্পর্কে থাকা মহিলাটি কখনও বলপূর্বক ভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হয়নি।
জানা গিয়েছে , এই অভিযোগকারী মহিলা বিবাহিত হলেও আলাদা থাকতেন। তিনি ২০২২ সালে রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় ওই আইনজীবীর সঙ্গে পরিচিত হন। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে তিনি ধর্ষণের অভিযোগে এফআইআর করেন ওই মহিলা।
আইনজীবীর দাবি ছিল, তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করার পর মহিলাটি ১.৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেন। আদালতে তিনি বলেন, তিন বছরের সম্পর্কের মধ্যে এই মহিলা কখনও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেননি।
সব দিক পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ ও সম্মতি ছিল এবং প্রতারণার কোনো প্রমাণ নেই। আদালতের ভাষায়, ব্যর্থ সম্পর্ককে ধর্ষণের অভিযোগে রূপান্তর করা আইন ব্যবস্থার অপব্যবহার। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয় এবং বলে, এমন অভিযোগে অভিযুক্তকে আজীবন কলঙ্কের মুখে পড়তে হয়, যা অত্যন্ত অন্যায়।


