ওয়াক্ফ সম্পত্তির নথি উমীদ পোর্টালে আপলোডের জন্য ছ’মাসের যে সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে, তা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং অগাস্টিন জর্জ মাসিহর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা আদালত পরিবর্তন করতে পারে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ওয়াক্ফ ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে হবে আবেদনকারীদের। কেন্দ্র সরকারের ‘উমীদ’ পোর্টাল চালু হয় ৬ জুন ২০২৫। এই পোর্টালে দেশের সমস্ত নথিভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য আপলোড বাধ্যতামূলক। ওয়াক্ফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫–এর অংশ হিসেবেই এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে ছ’মাসের সময়সীমা।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (AIMPLB) এবং আরও কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেখায়, হাজার হাজার সম্পত্তির পুরনো কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন। বহু নথি কয়েক দশক বা শতাব্দী প্রাচীন। তার উপর পোর্টালে বারবার প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সম্পত্তির তথ্য আপলোড করা প্রায় অসম্ভব।
আবেদনকারীদের আইনজীবী কাপিল সিব্বল জানান, অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য আপলোড করলেও পোর্টাল তা গ্রহণ করছে না। পুরনো ওয়াক্ফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে দাতা বা ‘ওয়াকিফ’-এর নাম-ঠিকানা দেওয়া সম্ভব নয়, তাই সময়সীমা খুবই কম।
কোর্ট অবশ্য সর্বসম্ম তভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন মানতে অস্বীকার করে। বেঞ্চের মন্তব্য, আইনে যেহেতু ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ছাড় বা সময় বাড়ানোর সুযোগ রাখা আছে, তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি সেখানে আবেদন করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে বিপাকে পড়তে পারেন বহু মুতাওয়াল্লি, বিশেষ করে সেই সব রাজ্যে যেখানে এখনও বেশির ভাগ ওয়াক্ফ সম্পত্তির তথ্য আপলোড হয়নি। সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এখন ট্রাইবুনালে বিপুল সংখ্যক মামলা জমা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাগরিক সমাজ ও মুসলিম সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই আইন মুসলিম সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে করা। সময়মতো নথি আপলোড করতে না পারলে বহু সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, এমনকি সরকারি ভাবে অধিগ্রহণের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় মসজিদ, দরগা, কবরস্থান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন দাতব্য ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তারা আশা করছে, আইনগত সুরক্ষা তাদের সম্পত্তিকে রক্ষা করবে।


