খড়্গপুর ডিভিশনের লোকো পাইলটরা সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছেন যে তাদের কাজের চাপ এখন আর সহনীয় নেই। নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রেনচালকদের দাবি, আগে যেখানে তাদের শিফট ৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত থাকত, এখন তা বেড়ে গিয়ে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত টানতে হচ্ছে। অনেক সময় টানা চার রাত ডিউটি করতে হচ্ছে, ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা চরম ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর, অসুস্থ হলেও ছুটির অনুমতি মিলছে না। চালকদের কথায়, রেল হাসপাতালকে নাকি মৌখিকভাবে বলা হয়েছে যাতে সহজে বিশ্রামের পরামর্শ না দেওয়া হয়। এতে অসুস্থ থাকার পরেও অনেককে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
ডিভিশনে লোকো পাইলটের মোট অনুমোদিত পদ প্রায় ৩৬৯১, কিন্তু কাজ করছেন মাত্র ২৩৭৬ জন। ফলে একেকজনকে দ্বিগুণ দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ট্রেন চলাচলেও। বহু লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন সময়মতো ছাড়তে পারছে না। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে চালকরা যথাযথ বিশ্রাম না নিয়েই পরের শিফটে যোগ দিচ্ছেন।
শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, রেলের নিয়ম অনুযায়ী চালকদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম পাওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। যেসব অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার কথা, তাও মিলছে না বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, সংকট দূর করতে অবিলম্বে অন্তত ১৮ হাজার নতুন লোকো পাইলট নিয়োগ প্রয়োজন। যদিও পরীক্ষার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানা গিয়েছে।


