তিন বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি ফেরানোর দাবিতে দেশজুড়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পড়ুয়া, নাগরিক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলির লাগাতার দাবির মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, সংখ্যালঘু বৃত্তি প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি লোকসভায় এই বিষয়টি উঠে আসে। রাজস্থানের সিকার থেকে সিপিআই(এম) সাংসদ আমরারাম প্রশ্ন তোলেন—কেন হঠাৎ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তিগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সরকার কি সেগুলি ফের চালু করতে চায়? উত্তরে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, আগামী অর্থনৈতিক চক্রে এই বৃত্তিগুলি চালুর জন্য ব্যয় অনুমোদন কমিটির (EFC) কাছে ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রি-ম্যাট্রিক, পোস্ট-ম্যাট্রিক ও মেরিট-কাম-মিনস—এই তিনটি বৃত্তি প্রকল্প আগে ছয়টি স্বীকৃত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য চালু ছিল। কিন্তু জাতীয় স্কলারশিপ পোর্টালে কিছু সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসায় প্রকল্পগুলি ২০২১-২২ অর্থবর্ষের পর আর চালু করা হয়নি। সরকার তখন তদন্তের কথা বললেও, দীর্ঘদিন ধরে বৃত্তি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জমতে থাকে।
শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, দুর্নীতির অজুহাত দেখিয়ে প্রকৃতপক্ষে বৃত্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গরিব ও প্রান্তিক পরিবারের সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীরা। উচ্চশিক্ষা তো দূরের কথা, অনেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতেই পারছে না।
বিশেষ করে ২০০৯ সালে শুরু হওয়া মওলানা আজাদ ন্যাশনাল ফেলোশিপ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন অনেকে। এই ফেলোশিপটি সাচার কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চালু হয়েছিল। সরকারের দাবি ছিল, অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এটি নাকি মিলে যাচ্ছে—কিন্তু সেই ব্যাখ্যা অনেকেই মানতে চাননি।
চমকপ্রদ বিষয় হল, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও টাকা খরচই হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রি-ম্যাট্রিক বৃত্তির জন্য ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ১.৫৫ কোটি টাকা। মেরিট-কাম-মিনস বৃত্তির ক্ষেত্রেও একই ছবি।
এই পরিস্থিতিতে কিছু রাজ্য নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। তামিলনাড়ু সরকার বিদেশে পড়তে যাওয়া মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য নতুন বৃত্তি চালু করেছে। কর্ণাটকও সংখ্যালঘু বৃত্তি পুনরায় শুরু করার ঘোষণা করেছে। কেরালা ও তেলেঙ্গানাতেও এই নিয়ে আলোচনা ও চাপ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের সাম্প্রতিক অবস্থানকে অনেকেই আন্দোলনের প্রথম সাফল্য বলে দেখছেন। তবে বৃত্তি কবে বাস্তবে চালু হবে, কতজন পড়ুয়া উপকৃত হবেন—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রী।


