উত্তরপ্রদেশের মেরঠ জেলার মাওয়ানা এলাকায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস দিবসকে ঘিরে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসককে পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। যদিও পরে আদালতের নির্দেশে তিনি জামিন পেয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. শিবা খান। তিনি বিএএমএস (আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা) পাশ করা একজন চিকিৎসক এবং মাওয়ানার আবদুল্লাপুর এলাকায় তাঁর নিজস্ব ক্লিনিক রয়েছে। অভিযোগ, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অডিও-ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন, যা পুলিশ “আপত্তিকর” বলে দাবি করেছে।
৬ ডিসেম্বর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া থাকায় সোশ্যাল মিডিয়ার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছিল। সেই সময়ই ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসে। মাওয়ানা থানার পুলিশ জানায়, ওই ভিডিও সাম্প্রদায়িক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে—এই আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর রবিবার ডা. শিবা খানকে তাঁর ক্লিনিক থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সন্তোষ কুমার সিং জানান, ব্যক্তিগত বন্ডে সই করার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভিডিওটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। দিনটি আজও দেশজুড়ে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় মহলে আলোচনা—একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কতটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তা ঠিক করবে তদন্তের ফলই।


