হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলায় নতুন করে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী সংগঠন হিন্দু রক্ষা মঞ্চ অভিযোগ করেছে, নেরওয়া তহসিলে থাকা তিনটি মসজিদ সরকারি জমির উপর গড়ে উঠেছে। সংগঠনের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দাবি মানা না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংগঠনের সভাপতি কমল গৌতম জানান, তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি থেকেই এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তার দাবি, ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে রহমান ও বিলাল নামক দুটি মসজিদ সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এলাকায় বেআইনি ধর্মীয় নির্মাণ চলছে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
গৌতমের আরও বক্তব্য, এই ধরনের নির্মাণ রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে। তার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই সরকারি জমি দখল করা হচ্ছে, যা বন্ধ করা জরুরি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন নেরওয়ার মুসলিম বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এভাবে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলায় এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই দোষারোপ করা হচ্ছে।
তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার শুধু মুসলিম উপাসনালয়গুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। তাদের মতে, জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে তা আইন ও প্রশাসনিক পথে সমাধান হওয়া উচিত, হুমকি বা চাপের মাধ্যমে নয়। স্থানীয় সমাজকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, সম্প্রতি শিমলার সঞ্জৌলি মসজিদ সংক্রান্ত বিতর্কের পর ফের এমন অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলের শান্ত পরিবেশে ফাটল ধরাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের উপরও চাপ বাড়ছে। মুসলিম সংগঠনগুলির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু যেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং কোনও সংগঠনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে না দেওয়া হয়। এদিকে কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় শুধুমাত্র নথি ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই খতিয়ে দেখা হবে।


