অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মাঝেও মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন আহমেদ আল আহমেদ। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বন্দুকধারীর সামনে দাঁড়িয়ে বহু নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা করেন তিনি। এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এগিয়ে এসে তাকে এক বিরল সম্মানে সম্মানিত করেছেন।
গত রবিবার বন্ডি বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের ‘হানুকাহ’ উৎসব চলাকালীন আচমকা হামলা চালায় দুই দুষ্কৃতী। চারদিকে গুলির শব্দ, আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। ঠিক সেই সময় ৪৩ বছর বয়সি সিরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম আহমেদ নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি একটি গাড়ির আড়াল নিয়ে পিছন দিক থেকে এক হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তার হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন। তবে সেই মুহূর্তে অন্য হামলাকারীর গুলিতে গুরুতর জখম হন আহমেদ।
বর্তমানে সিডনির সেন্ট জর্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই সাহসী ব্যক্তি। তার এই বীরত্বের কথা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের আবেগে সাড়া পড়ে যায়। বিশ্বের নানা দেশ থেকে ৪৩ হাজারেরও বেশি মানুষ তার চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য অর্থ সাহায্য পাঠান। গ্লোবাল ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ লক্ষ অস্ট্রেলীয় ডলার। শুক্রবার হাসপাতালে শুয়ে থাকা আহমেদের হাতে এই বিপুল অঙ্কের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জ্যাচারি ডেরেনিওস্কি। মার্কিন ধনকুবের বিল অ্যাকম্যানও এই তহবিলে উল্লেখযোগ্য অনুদান দেন।
চেক হাতে নিয়ে আবেগপ্রবণ আহমেদ বলেন, তিনি শুধু মানুষকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। তার কথায়, উৎসবের দিনে কেউ যেন প্রাণ হারায়, তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। উল্লেখ্য, ওই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিল। তবে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে আহমেদের এই আত্মত্যাগ আজ অস্ট্রেলিয়া ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বের কাছে সম্প্রীতি ও মানবতার এক উজ্জ্বল বার্তা হয়ে উঠেছে।


