দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ ডিসেম্বর একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে একাধিক পড়ুয়াকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৯ সালে সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) বিরোধী আন্দোলনের সময় জামিয়ায় পুলিশের অভিযানের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।
২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর জামিয়ার ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দমনমূলক অভিযান চালায়। সেই ঘটনায় বহু ছাত্রছাত্রী গুরুতর আহত হন। অন্তত একজন পড়ুয়ার চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে তখন দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল।
চলতি বছর সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে নীরব ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান। পড়ুয়াদের দাবি, কোনও বিশৃঙ্খলা বা হিংসা হয়নি। তাঁরা শুধু ২০১৯ সালের ঘটনার স্মরণ এবং সিএএ-এর বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে। সেই কারণেই পড়ুয়াদের কাছে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা বলছেন, এটি ভয় দেখানোর চেষ্টা। তাঁদের মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশ সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। শোকজ নোটিস দিয়ে সেই অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। ছাত্র সংগঠনগুলিও নোটিস প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং একে মতপ্রকাশ দমনের চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে।
এই ঘটনা ফের একবার ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটির মধ্যে টানাপোড়েনের প্রশ্ন তুলে ধরল।

