রাজস্থানে আদানি গোষ্ঠী-নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়ার দিনই সংশ্লিষ্ট বিচারককে অন্যত্র বদলি করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সময়কাল—এই দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন আইনজ্ঞ ও নাগরিক সমাজ।
গত ৫ জুলাই জয়পুরের বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক দীনেশ কুমার গুপ্ত রায় দেন যে, আদানি-নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থা রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থার কাছ থেকে বেআইনিভাবে ১,৪০০ কোটিরও বেশি টাকা পরিবহণ খরচ বাবদ আদায় করেছে। এই রায়ের মাধ্যমে রাজস্থানের অন্যতম বিতর্কিত কয়লা খনি চুক্তি নতুন করে আলোচনায় আসে।
কিন্তু সেই একই দিনে রাজ্য সরকারের আইন ও আইন বিষয়ক দপ্তর থেকে নির্দেশ জারি করে বিচারক গুপ্তকে বাণিজ্যিক আদালতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাজস্থান হাই কোর্ট তাঁকে জয়পুর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের বেওয়ার জেলার আদালতে বদলি করে।
দু’সপ্তাহের মধ্যেই হাই কোর্ট বিচারক গুপ্তর রায় স্থগিত করে দেয়। সেই সঙ্গে আদানি সংস্থার উপর ধার্য করা ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানা এবং চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (CAG) নিরীক্ষার নির্দেশও আপাতত কার্যকর হয়নি। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হওয়ার কথা।
এই মামলার সূত্রপাত আরও আগের। ২০০৭ সালে ছত্তিশগড়ের হাসদেও অরণ্য এলাকায় একটি কয়লা ব্লক রাজস্থান রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিগমকে বরাদ্দ করা হয়। পরে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগে যায়, যেখানে বেসরকারি সংস্থার মালিকানা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। চুক্তি অনুযায়ী, কয়লা খনি থেকে রেলপথে কয়লা পরিবহণের জন্য রেল সাইডিং নির্মাণের দায়িত্ব ছিল ওই যৌথ সংস্থার।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেল সংযোগ তৈরি না হওয়ায় কয়লা সড়কপথে পরিবহণ করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূল চুক্তিতে সড়কপথে কয়লা পরিবহণের কোনও উল্লেখ ছিল না। তবুও ওই সংস্থা রাজস্থান সরকারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের পরিবহণ খরচ আদায় করে।
বিচারক গুপ্ত তাঁর রায়ে মন্তব্য করেন, চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থারই বহন করা উচিত ছিল। উল্টে তারা সেই ব্যর্থতাকেই আর্থিক লাভের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বিচারক বদলির কারণ ও সময়কাল নিয়ে রাজ্য সরকার এবং হাই কোর্ট প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিচারক গুপ্তও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই ঘটনা আবারও সামনে আনছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বড় কর্পোরেট স্বার্থ জড়িয়ে থাকা মামলায় বিচারিক সিদ্ধান্তের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা স্বাভাবিক, আর কতটা উদ্বেগজনক? উত্তর আপাতত অজানাই থেকে গেল।


