ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নিউ জ়িল্যান্ডের রাজনীতিতে মতবিরোধ প্রকাশ্যে উঠে এল। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা হতেই সে দেশের শাসক জোটের মধ্যেই বিরোধের সুর শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে নিউ জ়িল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এই চুক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন। তার দাবি, এই সমঝোতা কার্যকর হলে লাভের তুলনায় ক্ষতিই বেশি হবে।
সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নিউ জ়িল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন যৌথভাবে জানান, দু’দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এই চুক্তি অনুযায়ী, নিউ জ়িল্যান্ড থেকে ভারতে আসা বেশির ভাগ পণ্যের উপর শুল্ক কমানো হবে বা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে। চুক্তি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে দেশের অর্ধেক পণ্যের ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলবে। অন্য দিকে, ভারত থেকে নিউ জ়িল্যান্ডে রফতানি হওয়া পণ্যের উপর আর কোনও শুল্ক বসবে না। ফলে সে দেশের বাজারে ভারতীয় সামগ্রী তুলনামূলক সস্তা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ডেয়ারি সংক্রান্ত পণ্যকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিউ জ়িল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স। তার মতে, ডেয়ারি শিল্প সে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এই শিল্পকে চুক্তির বাইরে রাখায় রফতানি নির্ভর বহু ব্যবসা সমস্যায় পড়তে পারে। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বলেন, এই চুক্তি নিউ জ়িল্যান্ডের পক্ষে ন্যায্য নয় এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে না।
বিদেশমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, চুক্তি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আগেই সময় নিয়ে দরকষাকষির পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা শোনা হয়নি। এমনকি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভারতীয় পেশাদারকে ভিসা দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। তার দল সংসদে এই চুক্তির বিরোধিতা করবে বলেও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে নিউ জ়িল্যান্ডের শাসক দল ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সোমবার সেই ঘোষণা এলেও, শাসক জোটের অন্দরেই বিরোধ দেখা দেওয়ায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


