গত সপ্তাহে হঠাৎ করে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ঘোষণার অনুষ্ঠান বাতিল হওয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সাহিত্য আকাদেমির ইতিহাসে এই প্রথম বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ এবং একটি স্বশাসিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছর ২৪টি ভাষায় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিটি ভাষার জন্য আলাদা জুরি গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর পুরস্কারপ্রাপকদের নাম ঠিক করা হয়। চলতি বছরেও সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছিল। আকাদেমির কার্যনির্বাহী বোর্ড তালিকা অনুমোদন করে ১৮ ডিসেম্বর পুরস্কার ঘোষণা উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠকের দিন ঠিক করেছিল। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল বলে জানা যায়।
কিন্তু অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, পুরস্কার ব্যবস্থার ‘পুনর্গঠন’ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পুরস্কার ঘোষণা করা যাবে না এবং এই বিষয়ে মন্ত্রকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এর জেরে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয় সাহিত্য আকাদেমি। জুরি সদস্য ও উপস্থিত অতিথিরা হতবাক হয়ে যান এই সিদ্ধান্তে। আকাদেমি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। প্রথমত, পুরস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অনেক আগেই, এমনকি মন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ারও আগে। ফলে পরে নিয়ম বদল করে তা আগের প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য করা যায় না। দ্বিতীয়ত, যদি পুরস্কার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকত, তবে তা আগেই জানানো যেত। ঠিক ঘোষণার দিন এই নির্দেশ কেন এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে।
অনেকের মতে, এই ঘটনায় সাহিত্য আকাদেমির স্বশাসন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্বাধীনভাবে সাহিত্যচর্চা ও ভাষার বিকাশের জন্য গঠিত এই প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সাহিত্য আকাদেমি, সংগীত নাটক আকাদেমি বা ললিত কলা আকাদেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ভারতের সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। সেই ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা করা আজ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এই পথে চললে পুরস্কারের গুরুত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


