নতুন বছরের শুরুতেই দুশ্চিন্তায় পড়লেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক। বছরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়ালেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে কামারহাটির প্রবর্তক জুট মিলকে ঘিরে। মঙ্গলবার ভোরে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা দেখেন, মিলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। গেটের উপর টাঙানো নোটিসে লেখা ছিল, মিলটি আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যান শ্রমিকরা। অনেকেরই সংসারের একমাত্র রোজগারের ভরসা ছিল এই মিল। বছরের শুরুতে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, কলেজের ফি, সংসারের নানা খরচ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।
মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কাঁচাপাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। লোকসানের আশঙ্কায় মিল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ছাড়া আর উপায় ছিল না বলেই মালিকপক্ষ জানিয়েছে। তবে শ্রমিকদের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কোনও স্পষ্ট কথা বলেনি। এক শ্রমিক জানান, শুরুতে বলা হয়েছিল সপ্তাহে পাঁচ দিন মিল চলবে। পরে তা কমিয়ে চার দিন করা হয়। শেষে কোনও আলোচনা ছাড়াই মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিল চত্বরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কাজ ফেরানোর দাবিতে তারা একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় এবং স্থানীয় বিধায়ক মদন মিত্রের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হতে পারে। উল্লেখ্য, কাঁচাপাটের বাড়তি দামের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জুট মিলেই সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের দফতরে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার চিঠিতে জুট শিল্প ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবি তোলা হয়েছে।


