দীদপুর পুইনানে ঐতিহাসিক হানির বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মুসল্লির কান্নায় ভেজা চোখ আর ‘আমিন আমিন’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে শেষ হয় আখেরি মোনাজাত। আল্লাহর ইবাদতে সিক্ত হয়ে ওঠে ইজতেমার পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা।
রবিবার থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। মূল ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাট, খোলা মাঠ ও এলাকায় নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মানুষজন। সোমবার, অর্থাৎ আখেরি দিনে, আনুমানিক এক কোটির কাছাকাছি মুসল্লির সমাগম হয় বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য এবং বিদেশ থেকেও বহু মুসল্লি এই ইজতেমায় যোগ দেন। ফজরের পর মাওলানা সাদ কান্ধলভির বয়ানের মাধ্যমে দিনটি শুরু হয়।
আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মার শান্তি, সমৃদ্ধি, বিশ্বশান্তি, জাতীয় সংহতি ও সম্প্রীতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। সকাল ১১টার পর ধীরে ধীরে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দান ছাড়তে শুরু করেন। চুঁচুড়া–তারকেশ্বর রোড, দুর্গাপুর হাইওয়ে, ধনিয়াখালি ও দিল্লি রোডে মানুষের ঢল নামে। অনেকেই ব্যাগ কাঁধে, মাথায় সামান নিয়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যান। রাস্তায় তিল ধারণেরও জায়গা ছিল না।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়। দুর্গাপুর হাইওয়ে ও বিভিন্ন রুটে ফ্রি বাস চলাচল করে।
ইজতেমায় রাজ্যের মন্ত্রী, পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ইজতেমা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, ৩২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এত বড় আকারে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলো এবং তা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মানুষ, এমনকি বহু হিন্দু ভাইও মুসল্লিদের সেবায় এগিয়ে আসেন। সব মিলিয়ে এই ইজতেমা সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।


