বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে পরিবেশ রক্ষায় একটি নতুন আন্দোলন গড়ে উঠছে। ইন্দোনেশিয়ার সৌর খামার থেকে শুরু করে পাকিস্তানের উপকূলীয় জলাভূমি—সব জায়গায় তরুণ মুসলিমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তারা নিজেদের ‘জলবায়ু যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এই তরুণদের কাছে প্রকৃতি রক্ষা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইসলামের ‘খিলাফাহ’ বা পৃথিবীর অভিভাবকত্বের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে কাজ করছেন। পাকিস্তানের আয়িশা সিদ্দিকা এই আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইমস্ তাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি পরিবেশ সংকটকে নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরছেন।
ইন্দোনেশিয়ায় মুরাল শিল্পী ইনায়াহ ওয়াহিউদি শহরের বিভিন্ন মসজিদের দেয়ালে পরিবেশবান্ধব বার্তা আঁকছেন। তার আঁকা ‘ইকো-মসজিদ’ চিত্রগুলো মানুষকে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে মিশরের মরিয়ম এলবান্না কপ-২৭ সম্মেলনে যুব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পর এখন মেয়েদের জন্য কুরআনভিত্তিক পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছেন। এই উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ইসলামি অর্থায়ন খাতও। প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের এই খাত এখন সবুজ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় ‘ওয়াকফ-সোলার’ প্রকল্প গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। জুম্মার খুতবায় পরিবেশ রক্ষার কথা বলা হচ্ছে এবং যাকাতের অর্থ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তরুণরা প্লাস্টিকমুক্ত মসজিদ ও বর্জ্যহীন মাদ্রাসা গড়ে তুলছে। ইসলামের দৃষ্টিতে পৃথিবী একটি আমানত, আর এই তরুণরাই সেই আমানত রক্ষায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


