উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে প্রকাশ্যে অস্ত্র বিতরণ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে হিন্দু রক্ষা দলের নেত্রী পিঙ্কি চৌধুরী ও তাঁর ছেলে হর্ষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন এলাকায় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে তলোয়ার, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র বিতরণ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়োতে দেখা যায়, একদল মানুষ আবাসিক এলাকার মধ্যেই অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেগুলি অন্যদের মধ্যে বিলি করছেন। পাশাপাশি মুসলিমদের উদ্দেশে উস্কানিমূলক ও হুমকি দিতে দেখা যায়। এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় বসবাসকারী সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, এমন ঘটনার পরে তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পুলিশের দাবি, ওই অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরী। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়, প্রায় ২৫০টি বাড়িতে অস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ভিডিয়োতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, এই অস্ত্র নাকি আত্মরক্ষার জন্য রাখা হচ্ছে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় মন্তব্য করা হয়। ঘটনার পর ২৯ ডিসেম্বর শালিমার গার্ডেন থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলায় পিঙ্কি চৌধুরী, তাঁর ছেলে হর্ষসহ মোট ১৬ জনের নাম রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। দাঙ্গা, দাঙ্গার উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, অবৈধ আটক এবং অন্যান্য ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিয়োতে ব্যবহৃত ভাষা ও কর্মকাণ্ড আইনবিরোধী। তদন্তে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, “প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানো এবং সহিংসতার উস্কানি দেওয়া অপরাধ। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কয়েকটি তলোয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর পিঙ্কি চৌধুরী ও তাঁর ছেলে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। পরে একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে। এদিকে স্থানীয় সমাজকর্মী ও সম্প্রদায়ের নেতারা এলাকায় শান্তি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


