ওড়িশার ঢেঙ্কানাল জেলার পারজং গ্রামের একটি বাড়িতে প্রার্থনা সভা চলাকালীন এক খ্রিস্টান যাজকের উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত যাজকের নাম বিপিন বিহারী নায়েক। অভিযোগ, বজরং দলের সদস্য ও কয়েকজন গ্রামবাসী মিলে তাঁকে মারধর করে, ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং গোময় খাওয়ানো হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জানুয়ারি, রবিবার। সেদিন যাজক নায়েক তাঁর স্ত্রী ও কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে একটি বাড়িতে প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় প্রায় ৪০ জনের একটি দল বাড়ির বাইরে জড়ো হয়। যাজককে বাইরে আসতে বলা হলে তিনি প্রার্থনা শেষ হওয়ার পর বেরোবেন জানান। অভিযোগ, এরপরই জোর করে বাড়িতে ঢুকে পড়ে হামলাকারীরা।
যাজকের স্ত্রী বন্দনা নায়েক জানান, বাড়ির ভিতরে থাকা সকলকে মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত সাতটি পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। কোনওরকমে সন্তানদের নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে নিকটবর্তী থানায় পৌঁছন।
অন্যদিকে, যাজক নায়েককে টেনে বাইরে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে লাঠি দিয়ে মারা হয়, মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেওয়া হয় এবং গলায় জুতোর মালা পরানো হয়। এরপর তাঁকে গ্রাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়। এই ঘটনা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন যাজককে গ্রামের হনুমান মন্দিরে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে গোময় খেতে বাধ্য করা হয় এবং ধর্মীয় স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়। মারধরের ফলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।
যাজকের স্ত্রী বারবার পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলেও পুলিশের পৌঁছতে দেরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধার হওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ কোনও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন সমাজকর্মীরা।
হামলাকারীদের দাবি ছিল, ওই প্রার্থনা সভার আড়ালে জোর করে ধর্মান্তর করা হচ্ছিল—যা যাজক ও তাঁর পরিবার অস্বীকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে যাজককে উদ্ধার করা হলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
ঘটনার জেরে পারজং গ্রামের সাতটি খ্রিস্টান পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। যাজক ও তাঁর পরিবার বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
ওড়িশায় সাম্প্রতিক সময়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা সামনে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজের বিভিন্ন অংশ।


