পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি এলাকায় ভুয়ো চিকিৎসকের বেআইনি চক্ষু হাসপাতালের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গত ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ হাসপাতাল রমরমিয়ে চলছিল। ওই হাসপাতালে চোখের অপারেশন করিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে সুধীর কোটাল। বৈরামপুরের বাসিন্দা সুধীর কোটাল চোখে ছানি পড়ায় কেশিয়াড়ির কুকাই এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর ছেলে সমরেশ কোটালের অভিযোগ, ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে অস্ত্রোপচার হলেও কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। হাসপাতালের মালিক দিলীপকুমার দাস নিজেই অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশনের পর এক মাস কেটে গেলেও সুধীরবাবুর দৃষ্টি ফেরেনি।পরিবার অন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, ভুল চিকিৎসার কারণে সুধীর কোটাল চিরতরের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শনিবার হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ পেয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সুদীপকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল তদন্তে আসে। তারা হাসপাতালের নথি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত দিলীপকুমার দাসের কোনও ডাক্তারি ডিগ্রি বা বৈধ শংসাপত্র নেই। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, শুধুমাত্র ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার জোরেই চিকিৎসা করছেন। যদিও তাঁর দাবি, রোগী আগে থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে ক্লিনিকের লাইসেন্স সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট শীঘ্রই জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
Popular Categories


