রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) পরিশোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বকেয়া জমে রয়েছে, তার অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বাকি অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি তৈরি হবে। এই কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে, অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ কত কিস্তিতে এবং কী পদ্ধতিতে দেওয়া সম্ভব। কর্মীদের স্বার্থ ও রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, দুই দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ডিএ কোনও অনুদান নয়, এটি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। তাই বকেয়া অর্থ আটকে রাখা যায় না। এই মামলাটি শুধুমাত্র পুরনো বকেয়া নিয়ে, বর্তমান কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্যের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, এর আগেও একই বিষয়ে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথমে অর্ধেক অর্থ দেওয়ার কথা উঠলেও, রাজ্যের তরফে আর্থিক চাপের কথা জানানো হয়। এরপর আদালত ২৫ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও আদালত আগের অবস্থানেই অনড় থাকে।
কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ে স্পষ্ট বার্তা মিলেছে যে রাজ্যকে বকেয়া মেটাতেই হবে। এখন দ্রুত অর্থ ছাড় করা এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া দরকার। সরকারি কর্মচারী মহলে এই নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তবে বাকি টাকার ভাগ্য কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কমিটির সুপারিশের উপর।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় রাজ্যের কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার কত দ্রুত নির্দেশ কার্যকর করে।


