নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর লক্ষ্য ঠিক থাকলে যে সাফল্য আসবেই, তার আরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এলাকার যুবক ওবাইদুর রহমান। কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অভাব এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি তিনি। তারই ফল হিসেবে ২০২৩ সালের ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল যুক্ত ও সাপ্লাই সার্ভিসে তিনি ১৩তম স্থান দখল করেন, যা গোটা এলাকা জুড়ে আনন্দের খবর এনে দিয়েছে।
ওবাইদুর রহমানের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানার মহেশাইল গ্রামে। তাঁর বাবা আবদুল সাদেক ছোট একটি রাসায়নিক সারের দোকান চালান। মা লুৎফুন্নেসা দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি পক্ষাঘাতজনিত সমস্যায় ভুগে শয্যাশায়ী। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় কোনওদিন পিছপা হননি এই দম্পতি। ওবাইদুরের এক দিদি আছেন, যিনি অরঙ্গাবাদের একটি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছেন।
ওবাইদুর রহমানের শিক্ষাজীবনের শুরু নিজের গ্রামের লক্ষ্মীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মুরারিপুকুর হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ২০১৮ সালে তিনি স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। এরপর শিক্ষকতার জন্য বি.এড পড়াকালীন সময়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন ভবিষ্যৎ নিয়ে। তখনই ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষাকে লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেন।
অভাবের কারণে বড় কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৯ সাল থেকে বাড়িতে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন। পরে ২০২০ সালে জঙ্গিপুরের একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পান। সেখানে শিক্ষকদের সহায়তা তাঁর পথচলায় বিশেষ ভূমিকা নেয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৩ সালে তিনি সামশেরগঞ্জ ব্লকের একটি মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডব্লিউবিসিএসের ফল প্রকাশ হতেই বদলে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ। গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদে পৌঁছনোর খবরে খুশিতে ভাসে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসী। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এই সাফল্যের পর ওবাইদুর রহমান বলেন, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সামনে এগোনো সহজ নয়। তবে কঠোর পরিশ্রম আর সৎ চেষ্টা থাকলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে সততার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন এই নবনিযুক্ত ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক।


