মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জয়জয়কারের মাঝে চাপা পড়ে গেলো মোস্তারি বানুর অবদান, এমনটাই মনে করছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আজ সিপিএমের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়। এই বৈঠকে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে মহম্মদ সেলিম বলেন, তামিলনাড়ু এবং কেরালায় সরকার SIR হয়রানির বিরুদ্ধে মামলা করে, তবে পশ্চিমবঙ্গে তা করা হয়নি।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে SIR ইস্যুতে তোলপাড় পড়েছে। ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নাম করে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে’, মূলত এই দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি SIR সংক্রান্ত হয়রানিকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্টে সাওয়াল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই আপত্তি প্রকাশ করেছে সিপিএম। তাদের দাবি, সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েক মাস আগেই মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় বসবাসকারী ক্ষেতমজুর সংগঠনের সক্রিয় কর্মী মোস্তারি বানু SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তা নিয়ে প্রথম শরীর সংবাদ মাধ্যম বা তথাকথিত গদি মিডিয়া কোন আলোকপাত করল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকারণ প্রশংসা করতে গিয়ে চাপা পড়ে গেল হিজাব পরিহিত বীরাঙ্গনা মোস্তারি বানুর কর্মকাণ্ড।
মোস্তারি বানু অভিযোগ করেছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম আসা সত্বেও, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির অজুহাতে তাকে ডাকা হয়েছে। বিনা কারণে তলবের জন্য তিনি চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হয়েছেন। যার ফলস্বরূপ, মোস্তারি বানু SIR এর বিরুদ্ধে এই মামলাটি করতে বাধ্য হন। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন সংবাদমাধ্যমগুলি এই খবরটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিল না? এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলনে সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমপি, এমএলএ, মুখ্যমন্ত্রী ট্যাগ থাকলে, আপনারা হয়তো সেই মহিলা বা মানুষকে আলো দিতে একটু বেশি পছন্দ করেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সামান্য গৃহবধূ মোস্তারি বানু, মানুষদের হয়রানির কথা তুলে ধরলে তা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।”

