টানা বৃষ্টির পর থেকেই নর্দমায় নদীর জল হু হু করে বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জল উপচে পড়ে হাওড়া জেলার হাটুড়া পরশতার বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘরবাড়ির উঠোনে জল, কাঁচা রাস্তা ডুবে গেছে, চাষের জমিও আর দেখা যাচ্ছে না—চারদিকে শুধু কাদা আর জল।
এই অবস্থার মধ্যেই শুরু হয় মাধ্যমিক পরীক্ষা। সবচেয়ে বিপাকে পড়ে এলাকার পরীক্ষার্থীরা। কারণ, এখানকার একমাত্র পরীক্ষা কেন্দ্রটি এমন জায়গায়, যেখানে পৌঁছতে হলে নর্দমার জল পেরোনো ছাড়া উপায় নেই। সকাল থেকেই তাই ছাত্রছাত্রী আর তাদের অভিভাবকদের মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
কেউ কোমর সমান জল ভেঙে হাঁটছে, কেউ আবার নৌকায় চেপে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছচ্ছে। ভাঙা রাস্তা, ডোবা সেতু আর স্রোতের টানে পা পিছলে যাওয়ার ভয় ছিল প্রতি মুহূর্তে। এক অভিভাবক বললেন, “পরীক্ষা আছে বলে পাঠাতেই হল, কিন্তু বুকের ভিতরটা ধকধক করছিল।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড় বহুদিন ধরেই দুর্বল হয়ে আছে। বর্ষা এলেই এই এলাকা ডুবে যায়। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার সেই অবহেলার ফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হল পড়ুয়াদের।
খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছান। তাঁদের সহযোগিতায় কোনও পরীক্ষার্থীকে নৌকায় তুলে, কাউকে হাত ধরে জল পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবু এই পরিস্থিতির মধ্যে মানসিক চাপ সামলে পরীক্ষা দেওয়া যে কতটা কঠিন, তা স্বীকার করছেন ছাত্রছাত্রীরা।
এলাকার মানুষের একটাই দাবি—নর্দমা , নদীর পাড় দ্রুত সংস্কার করতে হবে, জল বেরোনোর পথ ঠিক করতে হবে। না হলে আগামী দিনে এমন দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা।


