কাশ্মীরি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইরফান মেহরাজের দীর্ঘদিনের আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) এবং এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া) ৩০ জানুয়ারি জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন’-এর কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, মেহরাজের আটক বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
ইরফান মেহরাজ একজন স্বাধীন সাংবাদিক। তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন এবং কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও দিল্লির তিহার জেলে বিনা বিচারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
অভিযোগ, আদালত বারবার তার হেফাজতের মেয়াদ বাড়াচ্ছে। জামিনের আবেদনও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে বিচার শুরুর আগেই দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হচ্ছে তাকে। এইচআরএফ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “এই ঘটনা দেখায়, বিচার প্রক্রিয়ার আগেই জেলই যেন শাস্তিতে পরিণত হয়েছে।” তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মেহরাজ আগে জম্মু কাশ্মীর কোয়ালিশন অফ সিভিল সোসাইটি (জেকেসিসিএস)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রেই তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটি ‘এনজিও টেরর ফান্ডিং কেস’ নামে পরিচিত বলে জানা যায়।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই মামলায় মানবাধিকার কর্মী খুররম পারভেজও এখনও আটক রয়েছেন।
ফোরাম-এশিয়ার মতে, মেহরাজের সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজের কারণেই তাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। দুই সংস্থাই জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার আটককে বেআইনি ঘোষণা করে অবিলম্বে এবং শর্তহীন মুক্তির নির্দেশ দিতে।


