২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে, রাজ্য কংগ্রেস শিবিরে বড় ধাক্কা। রাজ্যের বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন দলেরই এক নেত্রী। ভারতীয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে, এবং কংগ্রেস নেত্রী আলকা লম্বাকে, মেইল করা হয় মহিলা সভানেত্রী শ্রাবন্তী সিং এর পক্ষ থেকে। মেইলের মাধ্যমে তিনি, শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য, হুমকি, মানসিক নির্যাতন, হেনস্থা সহ একাধিক অভিযোগ তোলেন। শুধু তাই নয় শ্রাবন্তী সিং আরও অভিযোগ করেন, শুভঙ্কর সরকারের আচরণের জন্য, তাকে ও তার পরিবারকে চূড়ান্ত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।
এই মেইল প্রকাশ্যে আসতেই ইতিমধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গীয় রাজনীতিতে। আর কয়েক মাস বাদেই শুরু হবে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে পুরনো, সিপিএম ও কংগ্রেসের হাত ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘একলা চলো নীতি’-র পন্থা অবলম্বন করছে কংগ্রেস। ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে একাই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। রাজ্যে একলা চলো নীতির মূল কান্ডারী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ, কংগ্রেসের ভোট ব্যালটে কতটা প্রভাব ফেলবে তার জবাব দেবে সময়।
শ্রাবন্তী সিং এর এই মেইলের প্রত্যুত্তরে এখনো পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। NBTV কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেত্রী মিতা চক্রবর্তী জানান, “শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক। তিনি মহিলাদের যথার্থ মর্যাদা দেন, এবং কাজের জায়গায় প্রত্যেকের সঙ্গে একটা প্রফেশনালিজম মেনটেন করার চেষ্টা করেন। কাজেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মনে হচ্ছে আমার” তিনি আরও বলেন, “কর্মক্ষেত্র যে কোন মানুষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন”
অপরটিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ চক্রবর্তী ঘটনা প্রসঙ্গে NBTV কে জানান, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে শুভঙ্কর সরকারকে একজন সাতজন ব্যক্তি বলে চিনি। যেহেতু ওনার দলের পক্ষ থেকে, নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাই এই বিষয় কংগ্রেসের ডিসিপ্লিনারি কমিটি প্রতিক্রিয়া দেবেন।” অপরদিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাকে উসকে দিয়ে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বহুদিন বাদে কংগ্রেস ভোটের একাধারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সিপিএম পন্থী ও বিজেপি পন্থী কংগ্রেসদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এটা অভ্যন্তরী বিরোধের জন্য হয়েছে কিনা, তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


