বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন পবিত্র রমযান মাসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংযম, ধৈর্য ও ইবাদতের এই গুরুত্বপূর্ণ মাসটি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির আশপাশে ২০২৬ সালের রমযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। এবারের রমযান নিয়ে একটি স্বস্তির খবর রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এবছর রোজার সময় কিছুটা কম হতে পারে। কারণ ইসলামি বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর রমযান ইংরেজি ক্যালেন্ডারে এগিয়ে আসে। এর ফলে দিনের আলো ও রাতের সময়ের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে রোজার সময় একরকম নয়। উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে সূর্য ওঠা ও ডোবার সময় দীর্ঘ হওয়ায় সেখানে রোজা তুলনামূলক বেশি সময় ধরে রাখতে হয়। গ্রিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মতো দেশে রোজার দৈর্ঘ্য ১৬ ঘণ্টার বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও সূর্য প্রায় অস্ত না যাওয়ায় রোজা ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্মীয় পণ্ডিতরা মক্কার সময়সূচি বা কাছাকাছি কোনো দেশের সময় অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধ ও বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোতে রোজার সময় কম হবে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি ও নিউজিল্যান্ডে রোজার সময় ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে সময় প্রায় স্থির থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও এবার রোজার সময় কিছুটা কমছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম রোজা প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের হতে পারে। মাস এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সময় ধীরে ধীরে বাড়বে। সব মিলিয়ে, এবারের শীতকালীন রমযান মুসলিমদের জন্য তুলনামূলক শান্ত ও সহজ ইবাদতের সুযোগ এনে দিচ্ছে।


