আলাহাবাদ হাই কোর্ট সাম্ভালের একটি বহুচর্চিত গুলিকাণ্ড মামলায় নিম্ন আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সমিত গোপালের একক বেঞ্চ সাম্ভালের প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) সেই নির্দেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অনুজ চৌধুরী-সহ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথা বলা হয়েছিল।
এই অন্তর্বর্তী স্বস্তির আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন সাম্ভাল সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী এবং প্রাক্তন কোটওয়ালি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুজ তোমর। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত এই নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে মূল অভিযোগকারীকে ১৪ দিনের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিজেএমের আদেশ কার্যকর হবে না।
রাজ্যের পক্ষে শুনানিতে বিচারপতি মনীশ গোয়াল ও সরকারি আইনজীবী এ.কে. স্যান্ড দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানেননি। তাদের বক্তব্য, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী।
অন্যদিকে অভিযোগকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এস.এফ.এ. নকভি এই আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, রাজ্য সরকার পুলিশ আধিকারিকদের রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি আদালতে বলেন, একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, অথচ সরকার অভিযুক্তদের আড়াল করতে তৎপর।
জানা গেছে, ইয়ামিন নামে এক ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে গত মাসে সিজেএম বিভাংশু সুধীর এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। ইয়ামিনের দাবি, সাম্ভালের হিংসার সময় পুলিশ তার ছেলেকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালায়। ওই অশান্তিতে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়। এর মধ্যেই সিজেএম সুধীরকে সুলতানপুরে বদলি করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


