মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের খাজরানা এলাকা শহরের অন্যতম মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। এই এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অফ বম্বে’কে ঘিরে সম্প্রতি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মের ভিত্তিতে পড়ুয়াদের আলাদা করে দেখছে এবং আলাদা স্কুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, স্কুলে মুসলিম ও অমুসলিম পড়ুয়াদের জন্য আলাদা বার্ষিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শ্রেণিকক্ষেও নাকি ধর্ম অনুযায়ী ভাগ করা রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক জানান, আগের বছরগুলিতে মুসলিম পড়ুয়াদের পদবি পর্যন্ত নম্বরপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
অষ্টম শ্রেণির এক মুসলিম ছাত্রীের মা বলেন, “আমাদের বাচ্চাদের আলাদা করে স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য নাচের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের সুযোগও দেয়নি, এমনকি শিক্ষকদের কোনও সহযোগিতা ছিল না। অনুষ্ঠান দু’ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, কোনও প্রধান অতিথিও ছিল না।” তার অভিযোগ, অন্যদিকে অমুসলিম পড়ুয়াদের অনুষ্ঠান তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে চলে, শিক্ষকরা নিজেরা তাদের সাহায্য করেন, এমনকি অতিথি ও আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা থাকে।
এই বৈষম্যের প্রতিবাদে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভও দেখান। বিষয়টি মূলত সমাজ মাধ্যমের একটি ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক শিক্ষক জানান, তিনি ‘এম’ সেকশনে পড়ান, যেখানে বেশিরভাগ মুসলিম পড়ুয়া রয়েছে। আবার ‘এ১’ ও ‘এ২’ সেকশনে হিন্দু পড়ুয়াদের সংখ্যা বেশি বলেও ইঙ্গিত দেন। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনও বৈষম্যের অভিযোগ মানতে নারাজ। প্রশাসনিক কর্মী নিধি জোশি বলেন, “আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ দিই, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভেদ করি না।”
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের ওয়েবসাইটে হোলি, দীপাবলি বা বড়দিনের ছবি থাকলেও ঈদের কোনও উল্লেখ নেই। এতে তাদের মনে হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু সংস্কৃতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মভিত্তিক বিভাজনের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে অনেকের মধ্যে।


