যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা স্ট্রিপ–এ ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও প্রায় ৮ হাজার মানুষের দেহ চাপা পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সিভিল ডিফেন্স দফতর। বৃহস্পতিবার সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক বিবৃতিতে বলেন, উদ্ধার অভিযান চললেও বিপুল সংখ্যক দেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি গাজাসিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইজরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্র নিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায় উদ্ধারকারী দলকে। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সুরক্ষা না থাকায় বহু এলাকায় পৌঁছনো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। সিভিল ডিফেন্সের দাবি, “অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদ নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।”
এদিকে Geneva Academy of International Humanitarian Law and Human Rights জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে গাজায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থার গবেষক Stuart Casey-Maslen বলেন, উপত্যকার জনসংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়া পরিস্থিতির গভীরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন উদ্যোগে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে গত বছর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তিকে সংঘাত থামানোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইজরায়েলের প্রশাসনিক কেন্দ্র টেলএভিব–এর বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
ধ্বংসস্তূপের নীচে স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকাজ কবে শেষ হবে, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।


