মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হুমকির ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই উদ্যোগকে ঘিরে শান্তির আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ঘোষণার পরও লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলার খবর সামনে এসেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহতের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের উপর এই সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে এবং অনেক এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর দাবি, এই সমঝোতার বাস্তব কোনও মূল্য নেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলও তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকবে। তাঁর এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবে যাঁরা সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করবেই, তা কূটনৈতিক পথে হোক বা সামরিকভাবে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাদের দাবি, ইজরায়েল লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে কোনও সমঝোতার সঙ্গে লেবাননের সংঘাতের সমাধানও জড়িত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন পক্ষের কড়া অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সহজ নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।


