জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ডাকে রবিবার রাতে জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিট ক্যাম্পাসে এক সতর্কতামূলক মিছিল ও সমাবেশ হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে এই কর্মসূচি করেন। সমাবেশে কিছু বিতর্কিত স্লোগানও শোনা যায়, যেমন “ব্রাহ্মণ্যবাদ মুর্দাবাদ”, “ঠাকুরবাদ মুর্দাবাদ” এবং “হিন্দু রাষ্ট্র মুর্দাবাদ”। পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টি , রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ছিল ইউজিসি-র নির্দেশিকা কার্যকর করা এবং তাদের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্র সংসদের চারজন পদাধিকারীকে দুই সেমিস্টারের জন্য বরখাস্ত করে। অভিযোগ, তারা আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সংসদের সভাপতি আদিতি মিশ্র ও সহ-সভাপতি গোপিকা কে বাবু।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক সুনীল যাদব, যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলি এবং প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তারা ড. বি.আর. আম্বেদকর সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে বসানো ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি নষ্ট করেছেন। এই ঘটনায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নীতিশ কুমারের উপর ২০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ক্যাম্পাস ছাড়তে বলা হয়েছে।
ছাত্র সংসদ এক বিবৃতিতে জানায়, আন্দোলনের মুখ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সোশ্যাল সায়েন্সেস স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ধর্মঘটের ডাক দেন। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি বরখাস্ত হওয়া নেতাদের সমর্থনে ক্লাস বয়কট ও আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।


