রাজ্যে কর্মসংস্থানের অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র দু’দিনে বেকার ভাতার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ১৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। গত রবিবার থেকে রাজ্য সরকার ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা শুরু করে। ২৯৪টি বিধানসভা এলাকাজুড়ে শিবির বসিয়ে যুবক-যুবতী ও খেতমজুরদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ১,৬০০টির বেশি শিবিরে মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে, যেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৪ লক্ষেরও বেশি। আবেদনকারীদের মধ্যে যেমন মাধ্যমিক পাশ তরুণ-তরুণী রয়েছেন, তেমনই স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিয়েছেন। ২১ বছর বয়স পূর্ণ হলেই মাসে দেড় হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যাচ্ছে।
জেলা ভিত্তিক হিসেবে আবেদন সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। দুই দিনেই সেখানে দেড় লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার আবেদন জমা হয়েছে। বিভিন্ন শিবিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে কাজের অভাবের কথা। ২০১৬ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্প সম্মেলনের মাধ্যমে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা করেছিলেন। সরকারি দাবি অনুযায়ী, কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের কথা জানানো হয়। তবু এত সংখ্যক মানুষের ভাতার জন্য আবেদন করা কর্মসংস্থানের চিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। শিবিরে ভিড় বাড়ায় সরকার এবার অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার রাত ১২টা থেকে অনলাইন পদ্ধতিও চালু হয়েছে। এদিকে গ্রামাঞ্চলে গত সাড়ে তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ।


