রাজ্যের সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য নতুন করে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের মিড-ডে মিল শাখা জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত ১২ দিন ডিম অথবা মরসুমি ফল দেওয়া হবে। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৮১ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে। প্রতিদিন একজন পড়ুয়ার জন্য অতিরিক্ত ৮ টাকা করে খরচ ধরা হয়েছে।
দফতরের তরফে বলা হয়েছে, শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি কমাতেই এই পদক্ষেপ। জেলার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের বরাদ্দ অর্থ থেকে যে টাকা অব্যবহৃত রয়েছে, তা দিয়েই এই অতিরিক্ত খাবার কেনা হবে। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রতিদিন ৬ টাকা ৭৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ১০ টাকা ১৭ পয়সা বরাদ্দ আছে। সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন আগে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরো ডিম দেওয়া নিয়ে সমস্যাও দেখা দিয়েছিল।
এই ঘোষণা ঘিরে শিক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, সামনে নির্বাচন থাকায় হঠাৎ করেই পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়ে এত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাঁদের আরও বক্তব্য, বছরে মাত্র ১২টি ডিম বা ফল দিলে কি সারাবছরের ঘাটতি মিটবে? গত বছর গরমের ছুটিতে বেশ কিছু দিন মিড-ডে মিল বন্ধ ছিল, সেই সময়ের টাকাও পুরো খরচ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকার কথা, বাস্তবে তা মিলছে না বলেও দাবি করেছেন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। আরও একটি সমস্যা হল, বর্তমানে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় বহু স্কুলে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ। ফলে মার্চ মাসে সীমিত সময়ের মধ্যেই এই অতিরিক্ত খাবার বিলি করতে হবে। সব মিলিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।


